1. mostafi.ponie@gmail.com : Mostafi Ponie : Mostafi Ponie
  2. uzzal.arpon@gmail.com : Sajuti Nur : Sajuti Nur
  3. editor@sopnosarothi.com : uzzal.arpon :
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:৪১ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
শুদ্ধাচার কৌশল অব্যহত চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দেশ বিনির্মাণে স্বপ্নসারথি’র সংকল্প দৃঢ়। সুন্দর অভ্যাস গড়তে আপনিও এগিয়ে আসুন। লিখুন, মতামত দিন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকি স্বাক্ষি দুর্জয় দূর্গ ভাস্কর্য

  • আপডেট টাইম: শনিবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১৯
  • ২৬৬ বার দেখা হয়েছে

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি ॥ যশোরের চৌগাছা বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে নির্মিত দুর্জয় দূর্গ ভাস্কর্যটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতীকি স্বাক্ষি হিসাবে দাড়িয়ে আছে। মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে ভাস্কর্যটি বেশ গুরুত্ব বহন করছে।
স্বাধীনতার প্রবেশদ্বার চৌগাছার বাজারের প্রাণ কেন্দ্রে নির্মিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য দুর্জয় আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে দাড়িয়ে আছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে স্মরণ করে দেবার জন্যই এটি নির্মিত। বিশ্ববরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতানের ছাত্র উপজেলা গর্বিত সন্তান শিল্পী আতিয়ার রহমান এই ভাস্কর্যটি নির্মান করেন।
ভাস্কর্যের বিষয়ে শিল্পী আতিয়ার রহমান জানান, ২০০৮ সাল থেকে তার মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য নির্মানের জন্য শিল্প সত্ত্বা জাগ্রত হয়েছিল। প্রথমে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার প্রতিফলন ঘটান সুনিপুন পেনসিলের স্ক্যাচে। সেই ভাস্কর্যের স্ক্যাচ নিয়ে ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের কাছে বহুবার ধর্ণা দিয়েছেন। বুঝিয়েছেন চৌগাছার রক্তঝরা মাটিতে নতুন প্রজন্মের জন্য ভাস্কর্যটি নির্মান করা একান্ত প্রয়োজন। কিন্তু সহযোগিতার পরিবর্তে ভৎসনা আর অপমানিত হয়েছেন এই শিল্পী। ফলে নিজের কাছে দগ্ধ হয়েছেন বারংবার। এরপর ২০১০ সালের ১৬ই ডিসেম্বর মাটি খুঁড়ে ভাস্কর্য নির্মানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান ও সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা এম সাখাওয়াৎ হোসেন।
প্রথম পর্যায় ভাস্কর্য নির্মানের জন্য শিল্পীর সাথে সাহসী ভূমিকা পালন করে চৌগাছা রিপোর্টার্স ক্লাব। ফান্ড গঠনের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন লোকজনের নিকট গিয়ে টাকা সংগ্রহ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু টাকা সংগ্রহ করার প্রয়াসটি থমকে যায়। কেননা ভাস্কর্য নির্মানের জন্য মোটা অংকের টাকা এভাবে সংগ্রহ করা সম্ভব নয়।

এ অবস্থায় শিল্পী আতিয়ার রহমানের এ কর্মকান্ড এগিয়ে নেবার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রী মরহুম মোস্তফা ফারুখ মোহাম্মদ ২০১১ সালে টিআর ও কাবিখার প্রকল্পের বরাদ্দ দেন। এছাড়া জেলা পরিষদও সহযোগিতা করেন। ধীরেধীরে কয়েক বছরের মধ্যে ভাস্কর্যটির নির্মান কাজ শেষ করা হয়। পরবর্তীতে সাবেক সংসদ সদস্য এ্যাড. মনিরুল ইসলাম মনির, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এস এম হাবিবুর রহমান ভাস্কর্য নির্মাণের বিষয়ে সকরারি অনুদানের জন্য সহযোগিতা করেন। এ বিষয়ে যশোর-২ চৌগাছা-ঝিকরগাছা আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা মেজর জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ডাঃ নাসির উদ্দিন বলেন, ইতোপূর্ব মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংসের অপচেষ্টা করা হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চাইছেন সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত ইতিহাস জনগন জানুক। সে সময় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত মোতাবেক সারাদেশে মৃক্তিযুদ্ধের স্মৃতি মিউজিয়াম, ভাস্কর্য নির্মাণ, গণকবর সংরক্ষণ করার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। আমি মনে করি এসব ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক স্থাপনা নতুন প্রজন্মের ইতিহাস জানতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। এতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করার সুযোগ আর থাকবেনা।
শিল্পী আতিয়ার রহমান আরো জানান, ভাস্কর্যটি নির্মান করতে ব্যায় হয়েছে ১৫ লাখ টাকা। ভাস্কর্যের বিষয়ে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্যটির উচ্চতা ত্রিশ ফুট। ভাস্কর্যটি তিন স্তরে ভাগ করা হয়েছে। মূলতঃ ত্রিভূজ আকৃতির চত্তর। বৃত্তাকার পানির ফোয়ারার ভিতর থেকে বেরিয়ে এসেছে ভাস্কর্যের মূল স্তম্ভ। প্রথম স্তরে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষন, যুদ্ধে গণহত্যার পৈচাশিকতার চিত্র এবং পাকিস্থানীদের পরাজয় দৃশ্য-আত্ম সমার্পণ। দ্বিতীয় স্তরে সাতজন বীর শ্রেষ্ঠদের প্রতিকৃতি। শেষ স্তরে অর্থাৎ উপরে আছে অসংখ্য জনতার প্রতীক একজন দুঃসাহসিক মুক্তিযোদ্ধা। যার এক হাতে হুশিয়ারী উচ্চরণ করা দেশ প্রেমের রাইফেল, অন্যহাতে শান্তির প্রতীক পায়রা। ভাস্কর্যের নান্দনিকতা এবং নানাদিক নিয়ে তিনি আরো বলেন রক্তস্নাত গাঁথা আমাদের মুক্তিযুদ্ধ। তিনি বলেন মুক্তিযোদ্ধারা কখনো মরেনা। যুগেযুগে কালেকালে মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের চেতনায় বেঁচে থাকবেন। নির্মিত ভাস্কর্যটি প্রতীকি স্বাক্ষি হয়ে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের বার্তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তাই ভাস্কর্যটি চারিপাশে বিলবোর্ড, প্যানা, সাইনবোর্ড না দিয়ে সকলকে ভাস্কর্যটি সংরক্ষনের দাবী জানান এই শিল্পী।

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো লেখা
©All rights reserved ©sopnosarothi
কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি