1. mostafi.ponie@gmail.com : Mostafi Ponie : Mostafi Ponie
  2. uzzal.arpon@gmail.com : Sajuti Nur : Sajuti Nur
  3. editor@sopnosarothi.com : uzzal.arpon :
শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২০, ১২:০৪ অপরাহ্ন
ঘোষণা:
শুদ্ধাচার কৌশল অব্যহত চর্চার মাধ্যমে জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও দেশ বিনির্মাণে স্বপ্নসারথি’র সংকল্প দৃঢ়। সুন্দর অভ্যাস গড়তে আপনিও এগিয়ে আসুন। লিখুন, মতামত দিন।

রক্তস্নাত ১৯৭১ ॥ গৌরব গাঁথা চৌগাছার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  • আপডেট টাইম: শুক্রবার, ২৫ অক্টোবর, ২০১৯
  • ১১৪ বার দেখা হয়েছে

রক্তঝরা দিন এবং রাতের গল্প। যে গল্প নতুন প্রজন্মের মানুষ তেমন জানেনা। প্রতিদিন ভোর বেলা সূর্য ওঠে এটি যেমন চিরন্তন। তেমনি সেই সূর্যের আলোয় রাঙ্গানো থাকে হাজারো কাল মহাকালের ইতিহাস। হাসি কান্না বেদনা ও রক্তস্নাত ইতিহাস। আমরা তেমনি এক ইতিহাস পাড়ি দিয়েছি। সেটা হলো স্বাধীনতার ইতিহাস, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস।

তখনো এই ভূখন্ডে স্বাধীনতার সূর্য ওঠেনি। আমাদের ভাষা. সংস্কৃতি, শিক্ষা এবং নিজস্ববোধের চেতনা লালন করলেও মর্যাদা দেয়া হয়নি। বারংবার অপদস্ত ও পদাঘাত করা হয়েছে। সেই অধিকারহীন মানুষগুলো একটি নতুন স্বপ্নে, নতুন সূর্যের স্বপ্নে, জেগে ওঠার স্বপ্নে ঘুরে দাড়ালো। শুরু হলো আপন হৃদয়ে রক্তের সঞ্চালন, জেগে উঠল প্রতিবাদ আর শৃংখল ভেঙ্গে ফেলার যুদ্ধের দামামা। হাজারও পথ পাড়ি দিয়ে, রাজপথের রাজনীতির পথচলা, তীব্র আন্দোলন ছাড়িয়ে অবশেষে ১৯৭১। শুরু হলো স্বাধীনতার যুদ্ধ। যুদ্ধের ইতিহাসে কোন যুদ্ধই খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। কিন্তু কিছু এলাকার মুক্তিযুদ্ধ বেশী মাত্রাই প্রতিফলিত হয় ইতিহাসের কারনে। যুদ্ধের ধরণ ও প্রকৃতির কারনে। তেমনি একটি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস খ্যাত উপজেলার নাম চৌগাছা। এই মাটিতে হাতাহাতি বা মল্লযুদ্ধ হয়। যে যুদ্ধ আর কোথাও হয়নি। এ ধরনের যুদ্ধ পৃথিবীর ইতিহাসে নজীরবিহীন বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। এখানকার যুদ্ধে নিহত হয় মুক্তিযোদ্ধাসহ ও অগনিত সাধারণ জনগন। পাক যুদ্ধ বিমান ভূপাতিত হবার ইতিহাস রয়েছে এই মাটিতেই। সেই জ্বাজাল্যমান গৌরবগাঁথা চৌগাছার যুদ্ধের ইতিহাস সংক্ষিপ্তভাবে তুলো ধরা হলো । বিভিন্ন তথ্য সূত্রে জানা যায়, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর শেখ মুজিবর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনের মধ্য দিয়ে চৌগাছার অঞ্চলে মানুষের মধ্যে যুদ্ধের উদ্দীপনা শুরু হয়। বঙ্গবন্ধুর একান্ত সহযোগি শহিদ মশিউর রহমান এ অঞ্চলের মানুষকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নেবার জন্য ব্যাপক ভূমিকা পালন করেন। এ সময় তিনি শাহাদৎ পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে কর্মীসভাসহ নানা কর্মসূচী গ্রহন করেন। তার সাথে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তৎকালীন সংসদ সদস্য রওশন আলী, তবিবর রহমান সর্দার, যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাজী নূর বক্স, আবুল হোসেন, ফুলসারা গ্রামের মহাসীন মিয়া, বাদেখান পুর গ্রামের আবুল হোসেন মল্লিক, পুড়াহুদার সামসুল আলম, সিংহঝুলীর আলী কদর মোহাম্মদ সামসুজ্জামান, ফুলসারা গ্রামের শাহাজান কবির, দিঘলসিংহা গ্রামের কৃতি সন্তান ওয়ালী উল্লাহ, যাত্রাপুর গ্রামের নিতাই সরকার, জগদীশপুর গ্রামের আশরাফ হোসেন, হাকিমপুর গ্রামের দাউদ হোসেন খান, জগন্নাথপুরের সুজাউদ্দৌলাসহ অসংখ্য স্বাধীনতাকামী জনতা। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকের ভূমিকা পালন করার কারনে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে শহিদ মশিউর রহমানকে পাক হানাদার বাহিনী আটক করে। এরপর পাক হানাদার বাহিনীর নির্মম নির্যাতন আর সীমাহীন অত্যাচারে ২৩ শে এপ্রিল তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

যুদ্ধের নিমিত্তে এ অঞ্চলের মানুষ প্রস্তুতি নেবার পাশাপাশি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন । এপ্রিল মাসের প্রথম দিকে ভারতের বনগাঁর টালী খোলা, চাপাবেড়ে, বিহার চাকুলিয়ায় মুক্তিযোদ্ধাদের ভর্তি ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে মুক্তিযোদ্ধাদের ভর্তি করে প্রশিক্ষন দেয়া হয়। প্রশিক্ষন শেষে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে এস এল আর, থ্রী নাট থ্রি, এল এম জি রাইফেল, এস এম জি দেয়া হয়। এ বছর মার্চ মাসের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধারা ভারতের সীমান্ত পার হয়ে কাবিলপুর ও মাশিলার পথ ধরে চৌগাছায় আসে। মুক্তিযোদ্ধারা এ এলাকায় নানা কৌশলে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। যুদ্ধের সূচনা পর্বের আগেই পাকসেনারা তাদের গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে এই এলাকায় সার্বিক পরিবেশ পর্যবেক্ষন করে। পাকসেনাদের চৌগাছায় আসার খবরে মুক্তিযোদ্ধারা সলুয়া ব্রিজ ভেঙ্গে দেয়। যাতে এ এলাকায় তারা প্রবেশ করতে না পারে। একপর্যায় রাজাকারদের সহযোগিতায় এলাকার নিরীহ জনগন ওই ব্রিজ মাটি দিয়ে ভরাট করে। কিন্তু ব্রিজ ভরাটের পর আগত নিরীহ জনগনকে পাকসেনারা ব্রাস ফায়ার দিয়ে হত্যা করে। এখানে ১৭ জন নিহত হয় বলে জনশ্রতি আছে। এরপর সলুয় ব্রিজ পার হয়ে স্থানীয় রাজাকারদের সহযোগিতায় পাকসেনারা ২০ এপ্রিল চৌগাছা এলাকায় ব্যাপক অগ্নিসংযোগ করে। বাড়ি ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। বিশেষ করে খোর্দ্দ সিংহঝুলী (মশিউর নগর) পুরোগ্রাম আগুন দেয়া হয়। পাকসেনারা ধারনা করেছিল এই গ্রামে শহীদ মশিউর রহমানের বাড়ি। তাই এই গ্রামকে পুড়িয়ে দগ্ধ করা হয়। সামনে যাকেই পায় তাকেই গুলি করে হত্যা করে। পাকসেনাদের গুলিতে খোর্দ্দ সিংহঝুলী গ্রামের ১১ জনসহ সিংহঝুলী গ্রামের আব্দুর বারিক বিশ্বাসের ছেলে মতিউর রহমান ও বেড়গবিন্দপুর গ্রামের মমিনুর রহমান মারা যায়। এছাড়া চৌগাছা বাজারে বিভিন্ন আড়ৎঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন স্থানে অগ্নিসংযোগ করে পাকসেনারা। এছাড়া চৌগাছার ডাকবাংলোসহ বিভিন্ন স্থানে পাকসেনারা ঘাটি গেড়ে সেখানে নির্যাতন চালাতো। যুবতি মেয়েদের ধরে শারীরীকভাবে অত্যাচার করত। ১৯ নভেম্বর ভারতের বয়রা সীমান্ত দিয়ে সাজোয়া ট্যাঙ্ক ও ভারী অস্ত্র নিয়ে ভারতীয় যৌথ বাহিনী (মিত্র বাহিনী) কপোতাক্ষ নদ পার হয়ে এই এলাকায় প্রবেশ করে। এই দিন থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চৌগাছার বিভিন্ন স্থানে পাকসেনাদের সাথে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। স্বরুপদাহ ইউনিয়নে মাশিলার ফকির শাহের আকড়া, সঞ্চাডাঙ্গার কচু বিলের মাঠ এবং গরীবপুর পৃথকভাবে পাক বাহিনীর সাথে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে। হাকিমপুর বাজার সংলগ্ন তৎকালীন কালীগঞ্জ থানার মান্দার বাড়িয়ার মুক্তি বাহিনীর কমান্ডার ওলাদের নের্তৃত্বে পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধ সংগঠিত হয়। অবশ্য এ যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ভারী অস্ত্র না থাকায় পিছু হটে আত্মরক্ষা করে। এই যুদ্ধে চন্দ্রপাড়া গ্রামের মজাহার আলী নিহত হন। তবে জগন্নাথপুর যুদ্ধটি এ অঞ্চলের বড় যুদ্ধ হিসাবে খ্যাত। এখানে মল্লযুদ্ধ (হাতাহাতি) বা বেওনেট যুদ্ধ হয়। ফলে  জগন্নাথপুরের ঐতিহাসিক আম্র কানন রনাঙ্গন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। এখানকার যুদ্ধের ধরন ও প্রকৃতি নিয়ে পৃথিবী বিভিন্ন দেশে সামরিক একাডেমীতে পাঠ করানো হয়। মিত্র বাহিনী ও মুক্তি বাহিনীর সাথে পাক সেনাদের তুমুল যুদ্ধসহ মল্লযুদ্ধ (হাতাহাতি) হয়। যেটা যুদ্ধের ইতিহাসে দেশের আর কোথাও হয়নি।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে ২০ নভেম্বর বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত পাকসেনারা সিংহঝুলী, মশিউরনগর মাঠ ও জগন্নাথপুরের উত্তরপাড়ায় সাজোয়া ট্রাংকসহ সস্বস্ত্র অবস্থায় অবস্থান নেয়। মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেয় জগন্নাথপুর ও গরীবপুর মাঠ সংলগ্ন চাড়ালের বাঁশ বাগানে ও তেঁতুল তলা এলাকায়। মূলত ২১ নভেম্বর পবিত্র ঈদের দিন থেকেই এখানে যুদ্ধের সূচনা হয়। নামাজের দিন হলেও খুশির পরিবর্তে চারপাশে নিস্তব্ধ নিরাবতা বিরাজ করে। অজানা আতংক সকলের মধ্যে। এ অবস্থায় ঠিকমত কেউ ঈদের নামাজও পড়তে পারেনি। এ অবস্থায় সকাল থেকেই শুরু হয় যুদ্ধ। পাক হানাদার বাহিনীর হঠাৎ অতর্কিত হামলা চালায়। প্রচন্ড গুলির শব্দে চারদিক প্রকম্পিত হয়ে ওঠে। জনসাধারণ দ্বিগি¦দিক ছোটাছুটি করতে থাকে। হন্নে হয়ে জীবন বাঁচানোর জন্য মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার নেশায় পাক সেনাদের বিরুদ্ধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী সাথে মুক্তি বাহিনী যুক্ত হয়ে যুদ্ধ শুরু করে। উভয়ের সম্মুখ যুদ্ধে ভারি অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। একই সাথে ট্যাংক যুদ্ধ ঘোষনা করে উভয় পক্ষ। তুমুল সংঘর্ষে পাকসেনাদের ৭ টি ট্যাংক ধ্বংস করে দেয় মিত্র ও মুক্তি বাহিনী। পাকসেনারা কোনঠাসা হয়ে পড়ে। একপর্যায় প্রথম দফায় এ যুদ্ধ শেষ হলে মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরাস্থ করার জন্য শুরু করা হয় আকাশযুদ্ধ। মুহুর্তের মধ্যে পাক জঙ্গি বিমান জগন্নাথপুর মাঠসহ চৌগাছার আকাশ প্রকম্পিত করে তোলে। মুর্হুমুহু গুলিতে বিধস্থ করার চেষ্টা করা হলেও ভারতীয় বিমানের কাছে পরাস্থ হয় পাক বিমান। বারবার বাঁধার মুখে পাক বিমান চৌগাছার আকাশে বেশিক্ষণ উড্ডয়ন করতে পারেনি। মিত্র বাহিনী দুটি বিমানকে ভূপাতিত করে দুজন পাইলটকে আটক করে। যুদ্ধ চলাকালীন উভয়ের গোলাবারুদ শেষ হলে এক পর্যায়ে জগন্নাথপুর আম্রকাননে শুরু হয় (হাতাহাতি) মল¬যুদ্ধ। এ সময় উভয় পক্ষ অস্ত্রের বাট, বেয়নেট, কিল, ঘুষি, লাথি এমনকি কুস্তাকুস্তির মাধ্যমে পরস্পরের সাথে যুদ্ধ করে। দ্বিতীয় দফায় জগন্নাথপুর ও গরীবপুর মাঠে ২২ নভেম্বর এখানে পুনরায় শুরু হয় কামান যুদ্ধ। এই যুদ্ধে ৯৬ জন পাকসেনা নিহত হয় বলে মুক্তিযোদ্ধারা ধারনা করেন। এ দিন মিত্র বাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের চতুর্দিক আক্রমন ও রণকৌশলে পাক সেনারা দিশেহারা হয়ে বিদ্ধস্ত ৭ টি ট্যাংক, বাকসো ভরা মার্কিন চাইনিজ অস্ত্র সস্ত্র ফেলে রেখে যশোর সেনানিবাস অভিমুখে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। মুক্ত হয় জগন্নাথপুর গ্রাম। ফলে জয়বাংলা স্লোগানে মুক্তিযোদ্ধাসহ এলাকার মানুষ আনন্দ করে। এই যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ ৫৭ জন সাধারণ জনগন শহীদ হন। তাদের মধ্যে ১৯ জন নিহতের নাম পাওয়া গেছে। নিহতরা হলেন সুজাউদ্দৌলা, আসাদুজ্জামান মধু, আব্দুর রাজ্জাক, আবুল হোসেন, রেজাউল হোসেন, করিমন নেছা, মহিউদ্দীন, রহিমা খাতুন, ভানু বিবি, ছইরন নেছা, দেওয়ান মুন্সি, কফিল উদ্দীন, বিশু মন্ডল, খোকা বারিক, আলতাপ হোসেন, জহির উদ্দীন, হাসান আলী, আয়শা আক্তার ও তাহের আলী। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে পাশাপোল, সলুয়া, দশপাকিয়া, বুড়িন্দিয়া, বাড়িয়ালী, কাবিলপুর, গদাধরপুর, ঢেঁকিপোতা, হাকিমপুর, মশ্মমপুর, রাজাপুর, সাঞ্চাডাঙ্গা, কুলে, বর্নী অঞ্চলে পাক বাহিনীর সাথে মিত্রবাহিনী ও মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধ সংগঠিত হয়। ৩ ডিসেম্বর আড়পাড়া, দূর্গাপুর, তেতুল বেড়ে ও চারাবাড়ির মাঠের মধ্যে সম্মুখ যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে মিত্র বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার মেজর জগৎ সিং এর নেতৃত্বে সুবেদার আয়ুব খান পাকসেনাদের ঘাটিতে ট্যাংক নিয়ে আক্রমন চালায়। এ যুদ্ধে পাকসেনা ও মিত্র বাহিনী প্রায় ৫০ জন সদস্য মারা যায়। এ যুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সহযোগী হিসাবে অংশ নেন সৈয়দপুর গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা মোবাশ্বের আলী, কোটালিপুর গ্রামের সোহরাব হোসেন, নড়াইল জেলার লোহাগড়ার থানার রেজাউল ইসলামসহ ত্রিশজন মুক্তিযোদ্ধা। নানা আক্রমন আর পাল্টা আক্রমনের মধ্য দিয়ে এ এলাকায় যুদ্ধ চলে। চৌগাছার সকল যুদ্ধে শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ জনগন নিহত হন। এরমধ্যে সাধারণ জনগন সবচেয়ে বেশী। তবে নিহত হওয়া সকলের নাম উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এ পর্যন্ত নিহত যাদের নাম পাওয়া গেছে তারা হলেন জগন্নাথপুর গ্রামের সুজাউদ্দৌলা, চৌগাছার ডা: বজলুর রহমান, রামকৃষ্ণপুরের মোসাদ্দিক আলী ও ইউনুচ আলী, যাত্রাপুরের জয়নাল আবেদীন. চন্দ্রপাড়ার মোজাহান আলী, কোটালিপুরের ইসলাম হোসেন, আঃ গফুর মাস্টার, আড়পাড়ার কাশেম আলী, মকছেদ আলী, খাইরুল ইসলাম, আফরা গ্রামের নুরুল ইসলাম, রামকৃষ্ণপুরের গোলাম কবির, উজিরপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলাম, মনির হোসেন, সিংহঝুলী গ্রামের মতিয়ার রহমান, আঃ রহিম বক্স, করিম বক্স, আঃ শুকুর আলী, নুর হোসেন, বজলুর রহমান, রনক আলী, কোটালীপুর জুল ফিকার, হোসেন আলী, আক্কেল আলী, রওশন আলী, কয়ারপাড়ার ওপেন্দ্রমুখার্জী, জগনাথপুর আবুল হোসেন, মশ্মমপুর আয়ুব হোসেন, কাদবিলার বিজয় রায়, সাঞ্চাডাঙ্গা আয়না বেগম, সাঞ্চাডাঙ্গা আদুরী খাতুন, ডলী খাতুন, পঞ্চা বাবু, আড়ারদাহের কায়েম উদ্দিন, রায়নগরের বুদোই মন্ডল, কয়াপাড়ার ছানার উদ্দিন, সলুয়ার ওয়াজেদ আলী, লুৎফর রহমান, মানিক বিশ্বাস, আনছার আলী, জগদীশপুর জাহাঙ্গীর আলম, দিঘলসিংহার করিম কক্স, নারায়নপুরের রওশন আলী, কদমতলার ইদ্রিস আলী, চৌগাছা রবিউল ইসলাম, হাজরাখানা বাবর আলী, হাকিমপুর হালিম মৃধা, চৌগাছা সর্দার পাড়ার বাহার আলী, হাকিমপুর মৃত্যুঞ্জয় প্রমূখ। চৌগাছার যুদ্ধের ইতিহাস গৌরবগাঁথা ইতিহাস। যুদ্ধের অনেক ইতিহাস এখনো বলাচলে অজানাই রয়ে গেছে। তবে যুদ্ধের ধরন ও মল্লযুদ্ধ (হাতাহাতি) সংগঠিত হওয়ায় জগন্নাথপুরের যুদ্ধটি এ অঞ্চলের লোমহর্ষক যুদ্ধ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত। তাই মল্ল¬যুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষনের জন্য সাবেক জেলা প্রশাসক, পরিকল্পনা মন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর জগন্নাথপুর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে নাম রাখেন মুক্তিনগর। জগন্নাথপুর গ্রামের আম্রকাননে কয়েক বছর আগে ভারতীয় সেনা প্রধান শংকর রায় চৌধুরী পর্যবেক্ষনে আসেন। ১৯৭১ সালে এ এলাকায় তিনি যুদ্ধের নেতৃত্বে দেন।

(তথ্য সূত্র- স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক, সাংবাদিক, প্রবীন জনসাধারণ)

স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

5 responses to “রক্তস্নাত ১৯৭১ ॥ গৌরব গাঁথা চৌগাছার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস”

  1. Like!! Great article post.Really thank you! Really Cool.

  2. I learn something new and challenging on blogs I stumbleupon everyday.

  3. These are actually great ideas in concerning blogging.

  4. Good one! Interesting article over here. It’s pretty worth enough for me.

  5. SMS says:

    These are actually great ideas in concerning blogging.

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই জাতীয় আরো লেখা
©All rights reserved ©sopnosarothi
কারিগরী সহায়তা: মোস্তাফী পনি